চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রধান সামূদ্রিক বন্দর। এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত।

অবস্থান

উত্তরে অক্ষাংশ ২২" ১৮' ৪৫" উত্তর, দ্রাঘিমাংশ ৯১" ৪৬' ৩০" পূর্ব, দক্ষিণে অক্ষাংশ ২২" ০৮' ১৩" উত্তর, দ্রাঘিমাংশ ৯১" ৫০' ০০" পূর্ব।

সমুদ্র সীমা

চট্টগ্রাম বন্দরের সমুদ্র সীমা হলো পতেংগা সংকেত কেন্দ্র থেকে সমুদ্রাভিমুখে সাড়ে ৫ মাইল , আর কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে উজানে হালদা নদীর মোহনা অবধি ২৩ মাইল এলাকা চট্টগ্রাম বন্দর এর অধিকারভুক্ত এলাকা। কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে উজানে ১০ মাইল পর থেকে জেটি আরম্ভ [১]

জেটির বিবরণ

স্থায়ী পাকা জেটী-১৫ টি
পন্টুন জেটি - ২ টি
বেসরকারি জেটি - ৩ টি
লাইটার জেটি - ৮ টি
মুরিং বার্থ - ১১ টি
মাল্টি পারপাস বার্থ ( কন্টেইনার জেটি) - ১২ টি

পন্টুন জেটিসহ মোট ১৭ টি জেটির মধ্যে ১৩ টি জেটিতে শোরক্রেন ও রেলওয়ে লাইনের সংযোগ আছে। ১১ টি জেটিতে রয়েছে শেড। ১৬ টি ট্রানজিড শেডের মধ্যে মোট আয়তন ১২,৩০,৮৫০ বর্গফুট। ওয়্যার হাউসের মোট আয়তন ৬,৭৭,৫৪০ বর্গফুট , মাল ধারন ক্ষমতা ২৭,৬০০ টন। [২] [৩]

বাতিঘর

রাত্রিকালে বঙ্গঊপসাগরেরে চলন্ত জাহাজকে সংকেত প্রদর্শণের জন্য বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর ও সামুদ্রিক এলাকায় ৫ টি বাতিঘর আছে।

কুতুবদিয়া বাতিঘর

১৮২২ খৃষ্টাব্দে কর্ণফুলি মোহনার ৪০ মাইল দুরে কুতুবদিয়া দ্বীপে এটি নির্মাণ করা হয়, ক্যাপ্টেন হেয়ার এর পরিচালনায় ও ইঞ্জিনিয়ার জে,এইচ,টুগুড এর নির্দেশনায় এই বাতিঘর নির্মাণ করা হয়। পাথরের ভিত্তির উপর নির্মিত এই বাতিঘরের উচ্চতা ১২১ ফুট। ১৮৪৬ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ৪৪২৮ টাকা। পাকিস্থান আমলে লৌহ নির্মিত টাওয়ারের উপর আধুনিকে বাতিঘর নির্মাণ করে প্রাচীন বাতিঘরটি বাতিল করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিত্যক্ত বাতিঘর ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়।[৪]

সেন্টমার্টিন বাতিঘর

এই বাতিঘরের প্রতি ১৫ সেকেন্ডে বিচ্ছুরিত আলো ১৭ মাইল পর্যন্ত দেখা যায়।

কক্সবাজার বাতিঘর

এই বাতিঘরের প্রতি ১৫ সেকেন্ডে বিচ্ছুরিত আলো ২১,৫ মাইল পর্যন্ত দেখা যায়।

নরম্যানস পয়েন্ট বাতিঘর

এই বাতিঘরের প্রতি ১৫ সেকেন্ডে বিচ্ছুরিত আলো ১১ মাইল পর্যন্ত দেখা যায়।

পতেঙ্গা বাতিঘর

এই বাতিঘরের প্রতি ১৫ সেকেন্ডে বিচ্ছুরিত সবুজ আলো ১৫ মাইল পর্যন্ত দেখা যায়। ref>বন্দর শহর চট্টগ্রাম - আব্দুল হক চৌধুরী প্রকাশকাল - ২০০৯, পৃঃ ৬৭ </ref>

[৫] [৬]


তথ্যসূত্র

  1. চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ , ইয়ার বুক ১৯৮১, পৃঃ১৪
  2. চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ , ইয়ার বুক ১৯৮২ , পৃঃ ২২
  3. বন্দর চট্টগ্রামের ইতিবৃত্ত (প্রবন্ধ) - জাফর ওসমান, বাংলাদেশের ইতিহাস সমিতি স্মরণিকা ১৯৮৪ , পৃঃ ২২
  4. বন্দর শহর চট্টগ্রাম - আব্দুল হক চৌধুরী প্রকাশকাল - ২০০৯, পৃঃ ৬৬
  5. আবুল মনসুর আহমেদ , বাংলাদেশ কালচার, পৃঃ ২৪৯
  6. চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষ , ইয়ার বুক ১৯৮৩, পৃঃ১৫